bangabandhu

শেখ হাসিনা পরিবার

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠা কন্যা

শেখ হাসিনা ওয়াজেদ বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় প্রধান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে

প্রথম মেয়াদকাল

১৯৯৬-২০০১

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে

দ্বিতীয় মেয়াদকাল

২০০৯-২০১৪

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে

তৃতীয় মেয়াদকাল

২০১৪-২০১৯

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে

চতুর্থ মেয়াদকাল

২০১৯-বর্তমান

শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত, ফোর্বস সাময়িকীর দৃষ্টিতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ২০২০ সালে তাঁর অবস্থান ছিল ৩৯ তম, ২০১৯ সালে ২৯ তম, ২০১৮ সালে ২৬ তম, এবং ২০১৭ সালে ৩০ তম। তিনি বিশ্ব নারী নেত্রী পরিষদ-এর একজন সদস্য, যা বর্তমান ও প্রাক্তন নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীদের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক।

প্রারম্ভিক ও রাজনৈতিক জীবন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠা কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়। শৈশবে শেখ হাসিনার শিক্ষা জীবন শুরু হয় গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার একটি পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হওয়ার পর সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় আসেন শেখ হাসিনা। পুরান ঢাকার মোগলটুলির রজনী বোস লেনে বসবাস শুরু করেন তাঁরা।

১৯৫৬ সালে টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন শেখ হাসিনা । ১৯৬১ সালের অক্টোবর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন । ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকার বকশী বাজারের ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। এ কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি কলেজছাত্র সংসদের সহ-সভানেত্রী (ভিপি) পদে নির্বাচিত হন।

শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠা কন্যা

জন্ম : ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সাল

মাধ্যমিক পাস : ১৯৬৫ সালে

উচ্চ মাধ্যমিক পাস : ১৯৬৭ সালে

স্নাতক (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) : ১৯৭৩ সালে

দাম্পত্য সঙ্গী : ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া

একই বছর (১৯৬৭ সাল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ও তাঁর বোন শেখ রেহানা বাদে পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করা হয়। বোনদ্বয় সেইসময় পড়াশোনার জন্য পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন। ১৯৭৫ সালের পর পরবর্তী বছরগুলোতে দেশের বাইরে নির্বাসিত জীবন কাটান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

১৯৮১ সালের শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এর পর থেকে টানা হাল ধরে আছেন আওয়ামী লীগের।

শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধু কন্যার সৃষ্টিকর্ম

রাজনীতির বাইরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রায় ৩০টি গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ সমূহ নিম্নরূপ

  1. শেখ মুজিব আমার পিতা
  2. সামরিক বনাম গণতন্ত্র
  3. ওরা টোকাই কেন
  4. বিপন্ন গণতন্ত্র
  5. সাদা কালো
  6. বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম
  7. আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম
  8. অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  9. MILES TO GO
  10. PEPOLE AND DEMOCRACY
  11. THE QUEST FOR VISION 2021
  12. আমাদের ছোট রাসেল সোনা

উল্লেখযোগ্য সম্মাননা

সামাজিক কর্মকান্ড, শিক্ষা, শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য সম্মাননাগুলো নিম্নরূপ

  1. ইউএন উইমেন থেকে "প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন"।
  2. ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ সালে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে "ডক্টর অব ল" ডিগ্রি প্রদান।
  3. জুলাই ১৯৯৭ সালে জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে "ডক্টর অব ল" সম্মাননা।
  4. ২৫ অক্টোবর ১৯৯৭ সালে অ্যবার্টয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে "ডক্টর অব ফিলোসপী" সম্মাননা।
  5. ১৯৯৮ সালে ইউনেসকো থেকে "হুপে-বোয়ানি শান্তি" পুরস্কার।
  6. ১৯৯৯ সালে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা থেকে "চেরেস" পদক লাভ।
  7. ২০ অক্টোবর ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানসূচক "ডক্টর অফ ল" ডিগ্রি লাভ।
  8. ১৮ ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক "ডক্টর অফ ল" ডিগ্রি লাভ।
  9. সেপ্টেম্বর ২০০০ সালে ব্রিজপয়েন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক "ডক্টর অফ হিউম্যান" লেটার লাভ।
  10. ২০০৯ সালে "ইন্দিরা গান্ধী" পুরস্কার।
  11. ২০১৪ সালে নারী ও কন্যাশিশুদের শিক্ষা প্রসারের স্বীকৃতি হিসাবে ইউনেস্কো থেকে "শান্তিবৃক্ষ" পুরস্কার লাভ।
  12. ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা জয়ের জন্য "সাউথ সাউথ" পুরস্কার লাভ।
  13. ২০১৫ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নেতৃত্বের জন্য ইউএন পরিবেশ পুরস্কার (চ্যাম্পিয়নস অব দ্যা আর্থ) লাভ।
  14. ১৬ নভেম্বর ২০১৫ সালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে "ডক্টর অব দ্য ইউনিভার্সিটি" ডিগ্রি প্রদান।
  15. ২৬ মে ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক "ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট)" ডিগ্রি প্রদান।
  16. ২৭ এপ্রিল ২০১৮ সালে বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে অসামান্য নেতৃত্বদানের জন্য "গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ" এওয়ার্ড লাভ।
  17. রোহিঙ্গা ইস্যুতে দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে দায়িত্বশীল নীতি ও তাঁর মানবিকতার জন্য "আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট এওয়ার্ড" এবং "২০১৮ স্পেশাল ডিসটিংশন এওয়ার্ড ফর লিডারশিপ" গ্রহণ।

পারিবারিক জীবন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় ১৯৬৭ সালে এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক কন্যা এবং এক পুত্র সন্তান রয়েছেন। তাঁরা হলেন :

সজীব ওয়াজেদ জয়

জন্ম :

২৭ জুলাই

১৯৭১

সজীব ওয়াজেদ জয়

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

জন্ম :

ডিসেম্বর

১৯৭২

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

এম এ ওয়াজেদ মিয়া

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম সুধা মিয়া। তাঁর বাবা আব্দুল কাদের মিয়া এবং মাতা ময়েজুন্নেসা। তিন বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি সর্ব কনিষ্ঠ। তিনি ১৯৫৬ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৮ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি পাশ করেন। ১৯৬৭ সালে লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই ধীরে ধীরে সংশ্লিষ্ট হতে শুরু করেন রাজনীতির সাথে। ১৯৬১ সালে ফজলুল হক হলের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ থেকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি পাশ করার পর ১৯৬৩ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে আণবিক শক্তি কমিশনে চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৬৭ সালে লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের পর দেশে ফেরার পর একই বছর ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে তিনি বিয়ে করেন।

এম এ ওয়াজেদ মিয়া

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া

জন্ম: ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২ সাল

জন্মস্থান : ফতেহপুর, পীরগঞ্জ, রংপুর

পিতা : আব্দুল কাদের মিয়া

মাতা : ময়েজুন্নেসা

মৃত্যু : ৯ মে ২০০৯ সাল

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা পরমাণু বিজ্ঞানী। তিনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৯৯ সালে অবসর নেন। ২০০৯ সালের ৯ ই মে বিকেল ৪ টা ২৫ মিনিটে দীর্ঘদিন কিডনির সমস্যাসহ হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ৬৭ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

রচিত গ্রন্থাবলী : তিনি স্নাতক পর্যায়ের বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য দুটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইংরেজিতে লেখা গ্রন্থদ্বয়ের নাম- "Fundamentals of Thermodynamics" এবং "Fundamentals of Electromagnatics"। তাঁর অন্যতম গ্রন্থ "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ" ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। তাঁর আরেকটি গ্রন্থের নাম "বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারের চালচিত্র" যা ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

সজীব ওয়াজেদ জয়

সজীব আহমেদ ওয়াজেদ হলেন একজন বাংলাদেশী আইসিটি পরামর্শক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র এবং বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই ঢাকায় পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনা দম্পতির ঘরে জন্ম নেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর 'জয়' নাম রাখেন তাঁর নানা শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭৫ সালে তাঁর নানা শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা হওয়ার পরে, জয় মায়ের সাথে জার্মানি এবং লন্ডন হয়ে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ফলে তাঁর শৈশব এবং কৈশোর কেটেছে ভারতে। সেখানকার নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন তিনি। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

সজীব ওয়াজেদ জয়

সজীব ওয়াজেদ জয়

জন্ম : ২৭ জুলাই ১৯৭১ সাল

দাম্পত্য সঙ্গী : ক্রিস্টিন ওভারমায়ার ওয়াজেদ

কন্যা : সোফিয়া ওয়াজেদ

২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর ক্রিস্টিন ওভারমায়ারকে বিয়ে করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁদের সন্তানের নাম সোফিয়া ওয়াজেদ।

লেখাপড়া করা অবস্থায় রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত থাকলেও জয় সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান ২০১০ সালে। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিতৃভূমি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ দেয়া হয় তাঁকে, যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে আসেন তিনি। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ ২০১৯ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর অবৈতনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে আওয়ামীলীগের বিগত মেয়াদের সরকারে ২০১৪ সালেও প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল একজন প্রখ্যাত অটিজম বিশেষজ্ঞ। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের একজন সদস্য এবং একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মনোবিজ্ঞানী। তিনি ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।

সায়মা ওয়াজেদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি, ২০০২ সালে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজির ওপর বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি লাভ করেন।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

জন্ম : ৯ ডিসেম্বর ১৯৭২ সাল

দাম্পত্য সঙ্গী : খন্দকার মাশরুর হোসেন

২০০৮ সাল থেকে তিনি শিশুদের অটিজম এবং স্নায়বিক জটিলতাসংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ করছেন। মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৪ সালে সায়মা ওয়াজেদকে 'এক্সেলেন্স ইন পাবলিক হেলথ অ্যাওয়ার্ড' প্রদান করে। তিনি ২০১১ সালে ঢাকায় অটিজম বিষয়ক প্রথম দক্ষিণ এশীয় সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন। ২০২০ সালে তিনি ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিষয়ভিত্তিক দূত হিসেবে মনোনীত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল খন্দকার মাশরুর হোসেনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির তিন কন্যা এবং এক পুত্র রয়েছে।

পিতা শেখ মুজিবের সাথে শেখ হাসিনা
পিতা শেখ মুজিবের সাথে শেখ হাসিনা
পুত্র জয়ের সাথে শেখ হাসিনা
পুত্র জয়ের সাথে শেখ হাসিনা
কন্যা পুতুলের সাথে শেখ হাসিনা
কন্যা পুতুলের সাথে শেখ হাসিনা

পরিবারের সদস্য-বৃন্দ

শেখ রেহানা পরিবার

ডান দিক থেকে- সজীব ওয়াজেদ জয়, স্ত্রী ক্রিস্টিন ওভারমায়ার ওয়াজেদ, শেখ হাসিনা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং স্বামী খন্দকার মাশরুর হোসেন মিতু।

শেখ রেহানা

বঙ্গবন্ধুর

কনিষ্ঠা কন্যা

বিস্তারিত