bangabandhu

বঙ্গবন্ধু পরিবার

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত জীবন

মাত্র ১৩ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন বেগম ফজিলাতুন্নেছা। বিয়ে হলেও বঙ্গবন্ধু এন্ট্রান্স পাস করার পরই মূলত তাঁদের সংসার জীবন শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর ভাষায়, তাঁদের বিয়ের ফুলশয্যা হয়েছিল ১৯৪২ সালে। এই দম্পতির ঘরে দুই কন্যা এবং তিন পুত্রের জন্ম হয়। তাঁরা হলেন :

শেখ হাসিনা

জন্ম :

২৮ সেপ্টেম্বর

১৯৪৭

শেখ হাসিনা

শেখ কামাল

জন্ম :

আগস্ট

১৯৪৯

শেখ কামাল

শেখ জামাল

জন্ম :

২৮ এপ্রিল

১৯৫৪

শেখ জামাল

শেখ রেহানা

জন্ম :

১৩ সেপ্টেম্বর

১৯৫৫

শেখ রেহানা

শেখ রাসেল

জন্ম :

১৮ অক্টোবর

১৯৬৪

শেখ রাসেল

বিয়ে সম্পর্কে 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' তে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন,

আমার যখন বিবাহ হয় তখন আমার বয়স বার তের বছর হতে পারে। রেণুর বাবা মারা যাবার পরে ওর দাদা আমার আব্বাকে ডেকে বললেন, 'তোমার বড় ছেলের সাথে আমার এক নাতনীর বিবাহ দিতে হবে। কারণ, আমি সমস্ত সম্পত্তি ওদের দুইবোনকে লিখে দিয়ে যাব।' রেণুর দাদা আমার আব্বার চাচা। মুরব্বির হুকুম মানার জন্যই রেণুর সাথে আমার বিবাহ রেজিস্ট্রি করে ফেলা হল। আমি শুনলাম আমার বিবাহ হয়েছে। তখন কিছুই বুঝতাম না, রেণুর বয়স তখন বোধহয় তিন বছর হবে।

বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহধর্মিণী
বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহধর্মিণী

বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী

সারা জীবন তুমি সংগ্রাম করেছ, তুমি জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করেছ, তুমি জানো যে এ দেশের মানুষের জন্য কী চাই, তোমার থেকে বেশি কেউ জানে না, তোমার মনে যে কথা আসবে তুমি শুধু সেই কথাই বলবে, কারো কথা শুনতে হবে না। তুমি নিজেই জানো তোমাকে কী বলতে হবে। তোমার মনে যে কথা আসবে তুমি সে কথাই বলবা।

যে মহীয়সী নারীর এমন দৃঢ়প্রত্যয় সাহস জোগানোর ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন ৭ই মার্চের অমর ভাষণ দিয়েছিলেন, বাঙালি জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন, ৭ই মার্চের ভাষণের নেপথ্য শক্তি—তিনি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বাংলাদেশের প্রথম ফার্স্ট লেডি এবং প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এর স্ত্রী। ডাকনাম রেণু।

বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব

বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব

বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী

জন্ম : ৮ আগস্ট ১৯৩০ সাল

জন্মস্থান : টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ

পিতা : শেখ জহুরুল হক

মাতা : হোসনে আরা বেগম

১৯৩০ সালের আগস্ট ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবার নাম শেখ জহুরুল হক এবং মায়ের নাম হোসনে আরা বেগম। একভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। শৈশবে বাবা-মাকে হারানোর পর শেখ ফজিলাতুন্নেছা বেড়ে ওঠেন দাদা শেখ কাশেমের কাছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকে তাঁর স্বামী, তিন পুত্র এবং দুই পুত্রবধূর সাথে হত্যা করা হয়।

বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলার জনগণ তাঁকে "বঙ্গমাতা" উপাধিতে ভূষিত করে। বঙ্গবন্ধুর জীবনে বঙ্গমাতা যেমন আলোকবর্তিতা, তেমনি আমাদের স্বাধীনতা ও দেশের মানুষের জন্য তাঁর অবদান অনন্য অবিস্মরনীয়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যত বেশি আলোচনা হবে, বঙ্গমাতার অবদান তত বেশি উদ্ভাসিত হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার নাম চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র

শেখ কামাল, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি ১৯৪৯ সালের ৫ ই আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। শাহীন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। এইচ.এস.সি. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি.এ. (অনার্স) পাস করেন। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই ক্রীড়াবিদ সুলতানা খুকুকে বিয়ে করেন।

বঙ্গবন্ধুপুত্র শেখ কামাল ছায়ানটে সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। নাটক, মঞ্চ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একনিষ্ঠ সংগঠক ছিলেন। ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অভিনেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে ছিলেন প্রতিষ্ঠিত। শৈশব থেকেই খেলাধুলায় ছিলো তাঁর প্রচণ্ড উৎসাহ। আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক ছিলেন।

শেখ কামাল

শেখ কামাল

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র

জন্ম : ৫ আগস্ট ১৯৪৯ সাল

জন্মস্থান : টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ

দাম্পত্য সঙ্গী : সুলতানা কামাল খুকু

যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর এডিসি হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হওয়ার সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এম.এ. শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ওই দিন ভোরে বাড়ি ঘেরাওয়ের কথা শুনে নিচে নেমে এলে ঘাতকরা সবার আগে তাঁকে গুলি করে হত্যা করে।

বঙ্গবন্ধুর প্রথম পুত্রবধূ

সুলতানা কামাল খুকু, বঙ্গবন্ধুর প্রথম পুত্রবধূ এবং শেখ কামালের স্ত্রী। তিনি ঢাকার বকশীবাজারে ১০ ডিসেম্বর ১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা দবিরউদ্দিন আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীফ ইঞ্জিনিয়র। ১৯৬৭ সালে তিনি মুসলিম গার্লস স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তৎকালীন গভ: ইন্টারমিডিয়েট কলেজে (বর্তমানে বদরুন্নেসা) ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে তিনি কৃতিত্বের সাথে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। একই বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন শেখ কামাল। এরপর অনার্স পাশ করে ভর্তি হন এম.এ. ক্লাসে। এম.এ. তে লিখিত পরীক্ষা দেন। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার আগেই ঘাতকদের বুলেটে তিনি নিহত হন।

স্কুল থেকে আন্তঃখেলাধুলায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিভাগে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষ করে লংজাম্পে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক ক্রীড়ায় চ্যাম্পিয়ন হন। মোহামেডান ক্লাবের পক্ষে ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান অলিম্পিকে লংজাম্পে দ্বিতীয়, ১৯৬৮ সালে ঢাকার মাঠে পাকিস্তান অলিম্পিকে লং জাম্পে ১৬ ফুট দূরত্ব অতিক্রমের রেকর্ডসহ স্বর্ণপদক পান। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯-৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় ক্রীড়ায় অংশ নিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে নিখিল পাকিস্তান মহিলা এথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় তিনি রেকর্ডসহ স্বর্ণ পদক পান। ১৯৭৩-এ লংজাম্পে স্বর্ণ পান। ১৯৭৪ এ লংজাম্প ছাড়াও সুলতানা ১০০ মিটার হার্ডলসে রেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

সুলতানা কামাল খুকু

সুলতানা কামাল খুকু

শেখ কামালের স্ত্রী

জন্ম : ১০ ডিসেম্বর ১৯৫১ সাল

জন্মস্থান : বকশীবাজার, ঢাকা

পিতা : দবিরউদ্দিন আহমেদ

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ফরিদপুরের কোনো এক পার্লামেন্ট সদস্যকে দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠান সুলতানার বাবা দবিরউদ্দিনের কাছে। তারপর দু পরিবারের সম্মতিতে কামাল ও সুলতানার বিয়ে সম্পন্ন হয়। সুলতানা আহমেদ, ১৯৭৫ এর ১৪ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর বড় ছেলে শেখ কামালের বউ হয়ে আসেন বঙ্গবন্ধুর পরিবারে। এরপর থেকেই তিনি সুলতানা কামাল নামে পরিচিত।

১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীর কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল সদস্যের হাতে স্বামী শেখ কামালসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে খুন হন।

বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় পুত্র

শেখ জামাল, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় পুত্র। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে ম্যাট্রিক ও ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন।

১৯৭১ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধানমণ্ডি ১৮ নং রোডের বাড়িতে মায়ের সঙ্গে বন্দি অবস্থায় থাকাকালে একদিন গোপনে বের হয়ে কালীগঞ্জ হয়ে মুক্তাঞ্চলে চলে যান এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

শেখ জামাল

শেখ জামাল

বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় পুত্র

জন্ম : ২৮ এপ্রিল ১৯৫৪ সাল

জন্মস্থান : টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ

দাম্পত্য সঙ্গী : পারভীন জামাল রোজী

ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে থাকাকালে যুগোশ্লভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসেফ টিটোর আমন্ত্রণে সেদেশে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ নিতে যান। তার পর লন্ডনের স্যান্ডহার্স্ট আর্মি একাডেমি থেকে সেনা প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে তিনি দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট র‍্যাংকে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালের ১৭ই জুলাই ফুফাতো বোন রোজীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

শেখ জামাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লংকোর্চ এর প্রথম ব্যাচের কমিশন্ড অফিসার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন তিনি হত্যার শিকার হন, তখন তিনি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন।

বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় পুত্রবধূ

পারভীন জামাল রোজী, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় পুত্রবধূ এবং শেখ জামালের স্ত্রী। তিনি সিলেটে ১৯৫৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছোট বোন খাদেজা হোসেন লিলির কনিষ্ঠ কন্যা। গোলাপের মত সুশ্রী বলে জন্মের পর বঙ্গবন্ধুই তাঁর নাম রেখেছিলেন রোজী। পিতা সৈয়দ হোসেন বঙ্গবন্ধু সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। ধানমণ্ডি গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে বদরুন্নেসা আহমেদ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন।

মাত্র ২৮ দিনের বিবাহিত জীবন ছিল কিশোরী রোজীর। মেহেদির রং তখনও তাঁর দু'হাতে ছিল। এরপরই তাঁর জীবনে নেমে আসে ১৫ আগস্টের কালো থাবা। মাত্র উনিশ বছর বয়সে স্বপ্ন দেখার আগেই খানখান হয়ে যায় একটি কিশোরীর জীবন। বেগম মুজিবকে হত্যা করে ঘাতকরা জামালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রোজী ও সুলতানাকে এক সঙ্গে গুলি ছুঁড়ে হত্যা করে। ওই বাড়িতে দু’বধুর শুভাগমন যেমন এক সঙ্গে তেমনি শোকাহত বিদায়ও ছিলো একসঙ্গে।

পারভীন জামাল রোজী

পারভীন জামাল রোজী

শেখ জামালের স্ত্রী

জন্ম : ১৯৫৬ সাল

জন্মস্থান : সিলেট

১৯৭৫ সালের ১৪ই জুলাই শেখ কামাল ও খুকুর বিয়ের দিন রোজীকে দেখে বঙ্গবন্ধু তাঁর বোন লিলিকে বলেছিলেন, 'আমার জামালের জন্য বউ খুঁজতে দূরে যেতে হবে না। তোমার মেয়েকে আমি নিলাম।' এর তিনদিন পর ১৭ জুলাই শেখ জামালের সাথে পরিণয় সুত্রে আবদ্ধ হন রোজী। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! শেখ পরিবারের দুই বধূ খুকি ও রোজী এসেছিলেন মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে, কিন্তু বিদায় নিলেন একই দিনে।

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র

শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকা অঞ্চলের ধানমন্ডিতে ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনে ১৮ অক্টোবর, ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে রাসেল ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।

শেখ রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে হত্যা করে তাঁদের লাশ দেখিয়ে তারপর রাসেলকে হত্যা করা হয়।

শেখ রাসেল

শেখ রাসেল

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র

জন্ম : ১৮ অক্টোবর ১৯৬৪ সাল

জন্মস্থান : ধানমন্ডি, ঢাকা

বাড়ির ছোট্ট ছেলে হিসেবে সবার আদরের ছিলেন । ১৫ আগস্ট , শেখ মুজিবের নির্দেশে রাসেলকে নিয়ে পালানোর সময় ব্যক্তিগত কর্মচারীসহ রাসেলকে অভ্যুত্থানকারীরা আটক করে। আতঙ্কিত হয়ে শিশু রাসেল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন, "আমি মায়ের কাছে যাব।" পরবর্তীতে মায়ের লাশ দেখার পর অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মিনতি করেছিলেন "আমাকে হাসু আপার (শেখ হাসিনা) কাছে পাঠিয়ে দাও।"

শেখ রাসেল
শেখ রাসেল

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত কর্মচারী এ.এফ.এম. মহিতুল ইসলামের ভাষ্যমতে,

রাসেল দৌড়ে এসে আমাকে জাপটে ধরে। আমাকে বললো, 'ভাইয়া আমাকে মারবে না তো?' ওর সে কণ্ঠ শুনে আমার চোখ ফেটে পানি এসেছিল। এক ঘাতক এসে আমাকে রাইফেলের বাট দিয়ে ভীষণ মারলো। আমাকে মারতে দেখে রাসেল আমাকে ছেড়ে দিল। ও (শেখ রাসেল) কান্নাকাটি করছিল যে 'আমি মায়ের কাছে যাব, আমি মায়ের কাছে যাব।' এক ঘাতক এসে ওকে বললো, 'চল তোর মায়ের কাছে দিয়ে আসি।' বিশ্বাস করতে পারিনি যে ঘাতকরা এতো নির্মমভাবে ছোট্ট সে শিশুটাকেও হত্যা করবে। রাসেলকে ভিতরে নিয়ে গেল এবং তারপর ব্রাশ ফায়ার।

বঙ্গবন্ধুর কন্যাদ্বয়

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা হলেন শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁরা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।

শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠা কন্যা শেখ হাসিনা।

বিস্তারিত
শেখ রেহানা

শেখ রেহানা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠা কন্যা শেখ রেহানা।

বিস্তারিত